Skbd IT https://www.skbdit.com/2022/12/tonsil.html

শীতে টনসিল ভালো করার উপায় - টনসিলের লক্ষণ


 শীতে টনসিল ভালো করার উপায় ও টনসিলের লক্ষণ সম্পর্কে আমাদের সকলেরই জানা উচিত। আজকের এই পোস্টে আমরা শীতে টনসিল ভালো করার উপায় এবং টনসিলের লক্ষণ সম্পর্কে আপনাদের সামনে কিছু তথ্য নিয়ে এসেছি। শীতকালে বা এমনি সময়ে আমাদের ছোট  শিশু কিশোরদের টনসিল জনিত সমস্যা হয়ে থাকে। তাই আপনাদের জন্য আজকের এই পোস্টে আমরা শীতে টনসিল ভালো করার উপায় এবং টনসিলের লক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করতে চলেছি।

শীতে টনসিল ভালো করার উপায়

তাহলে চলুন আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট শীতে টনসিল ভালো করার উপায় এবং টনসিলের লক্ষণ সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে নিন।

সূচিপত্রঃ শীতে টনসিল ভালো করার উপায় - টনসিলের লক্ষণ

টনসিল কি

আজকের এই পোস্টে আমরা শীতে টনসিল ভালো করার উপায় ও টনসিলের লক্ষণ সম্পর্কে আপনাদের সামনে বিস্তারে কিছু জানাতে চলেছি। কিন্তু তার আগে আমাদের টনসিল কি এ বিষয়ে জানা জরুরী। তাহলে চলুন টনসিল কি তা আগে জেনে নিন।

টনসিল এক ধরনের লসিকাগ্রন্থি বা লিম্ফয়েড টিস্যু। এতে কোনো ধরনের ইনফেকশন বা প্রদাহ হলে আমরা এটাকে টনসিলাইটিস বলি। মানবদেহে গলার ভেতরে দুপাশে একজোড়া প্যালাটিন টনসিল থাকে। টনসিলের প্রদাহ বলতে আমরা এর ইনফেকশনকেই বুঝে থাকি

টনসিল কত প্রকার

শীতে যে কোনও সংক্রমণই বাড়ে। সেই সঙ্গে সর্দি-কাশির সমস্যা লেগেই থাকে।ঠান্ডা লাগলে টনসিলে সংক্রমণ হয়ে থাকে। তখন ঢোক গিলতে ও কথা বলতেও অসুবিধা হয়। গলায় ব্যথার কারণে কাশতে গেলেও কষ্ট হয়। আজকের এই শীতে টনসিল ভালো করার উপায় গুলো সম্পর্কে আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। টনসিল রোগটি সাধারণ।

আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

ছোট এবং কিশোর বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা দিয়ে থাকে। কিন্তু টনসিল কত প্রকার তা কি আমরা জানি ? আমাদের শরীরে বিভিন্ন প্রকার টনসিল দেখা দিতে পারে । চলুন তাহলে টনসিল কত প্রকার তা আগে জেনে নেই।

মানুষের দেহে জন্মগতভাবে চার ধরণের টনসিল থাকে। এগুলো হলোঃ 

ফ্যারিঞ্জিয়াল টনসিল দুটি টিউবাল টনসিলদুটি প্যালাটাইন টনসিল এবংলিঙ্গুয়াল টনসিল।

টনসিল হওয়ার কারণ

টনসিল একটি সাধারন এবং সীমিত আকারের সমস্যা। যা প্রাথমিকভাবে শিশু-কিশোর এবং অল্পবয়সী কিশোরদের মাঝে বেশি ঘটে থাকে।টনসিল গ্রন্থির প্রদাহ বা ফোলা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। টনসিল গ্রন্থি, যা গলার পিছনের অংশে অবস্থিত ছোট ডিম্বাকৃতির গ্রন্থি। আজকের এই পোস্টে আমরা  শীতে টনসিল ভালো করার উপায় উপায় গুলো সম্পর্কে আজকের এই পোস্টটি সাজিয়েছি। ইতিমধ্যে আমরা টনসিল কি তা সম্পর্কে জেনেছি। কিন্তু টনসিল হওয়ার কারণ কি তা কি জানি? তাহলে টনসিল হওয়ার কারণ কি তা জেনে নিন।

টনসিলাইটিসের প্রধান কারণ ভাইরাল সংক্রমণ।তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া টনসিল গ্রন্থিগুলিকেও সংক্রমিত করতে পারে। Streptococcus pyogenes হল প্রধান ব্যাকটেরিয়া, যা টনসিলাইটিসের জন্য দায়ী। ব্যাকটেরিয়াজনিত টনসিলাইটিস ছোট বাচ্চাদের তুলনায় বাড়ন্ত শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ভাইরাল টনসিলাইটিসের চেয়ে ব্যাকটেরিয়াল টনসিলাইটিস নিরাময়ে বেশি সময় লাগে যদি চিকিৎসা না করান। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে টনসিলাইটিসের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকগুলি প্রধান এবং সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা।

শীতে টনসিল ভালো করার উপায়

আপনারা যারা এতক্ষণ আমাদের এই পোস্টটি পড়ছেন, তারা নিশ্চয়ই টনসিল কি তাই ইতিমধ্যেই জানতে পেরেছেন। আপনাদের জন্য আজকের এই পোস্টে আমরা শীতের টনসিল ভালো করার উপায় এবং টনসিরের লক্ষণ সম্পর্কে কিছু তথ্য জানাতে চলেছি। শীতে টনসিল ভালো করার উপায় সম্পর্কে জেনে নিন।

আরো পড়ুনঃ শীতকালে খেজুরের রস খাওয়ার উপকারিতা

টনসিল হলো আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ। এবং আমাদের মুখের ভেতরেই চারটি গ্রুপে তারা অবস্থান করে। এদের নাম লিঙ্গুয়াল, প্যালাটাইন, টিউবাল ও অ্যাডেনয়েড। এই টনসিলগুলোর কোনো একটির প্রদাহ হলেই তাকে বলে টনসিলাইটিস ।

চলুন জেনে নিই টনসিল রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা-

১। গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে ভেপার নিন। এই সময় চাদর দিয়ে নিজেকে মুড়ে ফেলুন। 

২। কান-মাথা যেন কাপড় দিয়ে ডেকে রাখতে হবে। এ সময় বাতাস গায়ে না লাগানো ভালো। 

৩। গলাব্যথা, টলসিলের অসুখ থেকে অনেকটা আরাম লবণ ও পানির ভেপার।

৪। ফোটানো দুধে এক চিমটে হলুদ মিশিয়ে খেতে পারেন। হলুদের অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান সংক্রমণ সরায়। এ ছাড়া হলুদ প্রাকৃতিকভাবেই অ্যান্টিসেপটিক উপাদানে ঠাসা। তাই হলুদের প্রভাবে গলার প্রদাহও সারে।

৫। তিন কাপ পানিতে এক চা চামচ গ্রিন টি ও এক চামচ মধু দিয়ে মিনিট পাঁচেক ফুটিয়ে নিন। এই চা একটা ফ্লাস্কে রেখে দিন। উষ্ণ থাকাকালীন অল্প অল্প করে বারবার খান। গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এটি শরীরের জীবাণুর সঙ্গে লড়াইও করে। 

৬। খেয়ে দেখতে পারেন মধু। মধুর অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল উপাদান প্রদাহ কমায় টনসিলের।

টনসিলের লক্ষণ

প্রিয় পাঠক আজকের এই পোস্টে আমরা শীতে  টনসিল ভালো করার উপায় এবং টনসিলের লক্ষণ সম্পর্কে আপনাদের সামনে বিশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য নিয়ে এসেছি। শীতে টনসিল ভালো করার উপায় সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যেই জানতে পেরেছি। চলুন তাহলে টনসিলের লক্ষণ গুলো কি তা জেনে নিন।

১। তীব্র গলাব্যথা

২। মাথাব্যথা

৩। খাবার খেতে কষ্ট

৪। মুখ হাঁ করতে অসুবিধা

৫। কানে ব্যথা

৬। মুখ দিয়ে লালা বের হওয়া

৭। কণ্ঠস্বর ভারি হওয়া

৮। মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া।

৯। স্বরভঙ্গ

১০। গলায় ঘাসহ টনসিল স্ফীতি

১১। ঢোক গিলতে কষ্ট হয়

১২। গলা ফুলে যাওয়া

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পোষ্টঃ

বাচ্চাদের টনসিলের ওষুধ

বাচ্চাদের টনসিলের ঔষধ সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন। কারণ আজকের এই পোস্টে আমরা শীতের টনসিল ভালো করার উপায় সহ টনসিলের লক্ষণ এবং বাচ্চাদের ওষুধ সম্পর্কে আপনাদের সামনে কিছু তথ্য তুলে ধরব তাহলে চলুন বাচ্চাদের সম্পর্কে জেনে নিন।

আরো পড়ুনঃ এলার্জি ভালো করার উপায়

ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল +টামাডল একটা করে ২-৩ বার খেতে পারেন। যেকোনো একটি এন্টিহিস্টামিন যেমন ফেক্সোফেনাডিন অথবা রূপাটাডিন রোজ একটা করে পাঁচ থেকে সাত দিন সেবন করবেন। সাথে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসাবে এমোক্সিসিলিন ৮ ঘণ্টা পরপর একটা এভাবে ৭ দিন খেতে হবে। বয়স অনুযায়ী ১২ বছরের নিচে ২৫০ মিলিগ্রাম আর ১২ বছরের মধ্যে ৫০০ মিলিগ্রাম। রোগের তীব্রতা যদি বেশি হয় তাহলে এমোক্সিসিলিন এর পরিবর্তে এ্যানজিথ্রোমাইসিন রোজ একটা করে এভাবে ৫ দিন খাবে।

আজকের এই পোস্টে আমরা শুধু বাচ্চাদের টনসিলের ওষুধের কিছু নাম উল্লেখ করেছি কিন্তু আপনার বাচ্চার সঠিক চিকিৎসা পেতে হলে আপনি অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করবেন।

শেষ কথাঃ শীতে টনসিল ভালো করার উপায় - টনসিলের লক্ষণ

আপনি নিশ্চয় শীতে টনসিল ভালো করার উপায় গুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আপনাদের জন্য আজকের এই পোস্টে আমরা শীতে টনসিল ভালো করার উপায় এবং টনসিলের লক্ষণ সম্পর্কে এই পোস্টে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি। টনসিল কোন গুরুতর  রোগ নয়। আপনি যদি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পান তাহলে আপনি এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারেন।আশা করি আমাদের এই পোস্টটি পড়ে আপনি অনেক উপকৃত হয়েছেন।

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?