মহররম মাসের রোজা কয়টি - আশুরার রোজা কবে ২০২৩

মহররম মাসের রোজা কয়টি এ বিষয়ে জানতে আপনারা যারা আমাদের এই আর্টিকেলটি ওপেন করেছেন তারা সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা মহররম মাসের রোজা কয়টি সে বিষয়ে আপনাদের জানাবো। আমাদের এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন।

মহররম মাসের রোজা কয়টি

তাহলে আপনার মহররম মাসের রোজা কয়টি সে সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানতে পারবেন। তাহলে আসুন মহররম মাসের রোজা কয়টি এবং মহরম মাসের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে জেনে নিন।

সূচিপত্রঃ মহররম মাসের রোজা কয়টি - আশুরার রোজা কবে ২০২৩

মহররম মাসের রোজা কয়টি

মহররম মাস ইসলামের দৃষ্টিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদাবান মাস এ মাস কে ঘিরে অনেক ইতিহাস রয়েছে। হিজরী সনের প্রথম মাস মহরম মাস। এই মহররম মাসের রোজা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তাই যারা মহররম মাসে রোজা কয়টি এ বিষয়ে জানতে চান তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখবে, কিন্তু ইহুদীদের সাথে মিল যেন না হয়। এ জন্য ১০ তারিখের আগের দিন অথবা পরের দিন আরো একটি রোজা রেখে নিয়ো।' (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২১৫৪)

আরো পড়ুনঃ জিলকদ মাসের আমল ও ফজিলত

এ হাদিস দ্বারা বুঝা যায় আশুরার দিন ইহুদি রোজা রাখতেন। ১০ মহররম এই মাসে মুসা আঃ ফেরাউনের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছিল। তাই কৃতজ্ঞতা স্বরূপ ইহুদীরা সেইদিনে রোজা রাখেন। এজন্য অন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম আমাদের ১০ই মহররমকে মাঝখানে রেখে দুইটি রোজা করতে বলেছেন। ৯ মহরম ও১০ মহররম। কেউ যদি ৯ মহরম রোজা না রাখে তবে ১০-১১ তারিখে রোজা পালন করতে হবে।

আশুরার রোজা কেন করব

১০ মহররম পবিত্র আশুরার দিন। এদিনকে ঘিরে ইসলামের নানা ইতিহাস যুক্ত রয়েছে।মহররম অর্থ মর্যাদাপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ। যেহেতু অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এ মাসকে ঘিরে, সঙ্গে সঙ্গে এ মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ছিল, এসব কারণেই এ মাসটি মর্যাদাপূর্ণ। এই মাসের বিশেষ আমল হল আশুরার দুইটি রোজা। অনেকেই মহররম মাসে রোজা কয়টি এব শেষ সঠিক ভাবে জানতে চাই তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেলে আমরা মহররম মাসে রোজা কয়টি এ বিষয়ে ইতিমধ্যে জানিয়েছি।

আসাউদ্দিন আল্লাহতালা প্রথম এই বিশ্ব জগত সৃষ্টি করেছেন এবং আশরাফুল মাখলুকাত আদম সন্তানের সৃষ্টি করেছেন এই আশুরার দিন। আসরের দিন ইসলামী ঐতিহাসিক তাৎপর্য ঘটনা সাথে যুক্ত রয়েছে। আশুরা রোজা নবী করীম সাল্লাল্লাহু সালাম রমজান মাসের রোজার সমতুল্য মর্যাদা দান করেছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আশুরার দিনের সাওমের ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের পাপ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৭৬)

রমজানের পর সর্বোত্তম সাওম হচ্ছে আল্লাহর মাস মহররম। মহররম মাসের রোজার সংখ্যা যত বেশি হবে মর্যাদাও ততই বাড়তে থাকবে। মহররম মাসে বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায় দুইটি রোজা পালন করে থাকে এবং ইহুদী সম্প্রদায়ের দিন একটি রোজা পালন করে থাকে।

ইসলামপূর্ব আরব সমাজেও মহররম মাসের বিশেষ মর্যাদা ছিল। পবিত্র কোরআনে ঘোষিত পবিত্র চার মাসের অন্যতম মহররম। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই মাসগুলোর গণনা আল্লাহর কাছে বারো মাস আল্লাহর কিতাবে, (সেদিন থেকে) যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন।

আশুরার রোজা কবে ২০২৩

আশুরা ইসলামের বিশেষ একটি দিন এই দিনের অনেকেই খোঁজ নিয়ে থাকেন এবং রোজার উদ্দেশ্যে আশুরার দিন কবে সে বিষয়ে জানতে চাই। মহররম মাসের রোজা কয়টি সে বিষয়ে অনেকেই হয়তো সঠিকভাবে জানে না তাই আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা মহরম মাসে রোজা কয়টি এবং আশুর রোজা কবে ২০২৩ সম্পর্কে জানতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ মহররম মাসে কয়টি রোজা করতে হয়

প্রতিবছর ১০ই মহররম আশুরার দিন। দশই মহররম প্রতিবছর আশুরার রোজা পালিত হয়। এবং ২০২৩ সালে এই বছর মহররম মাসের ১০ তারিখ আশুরার রোজা রাখা হবে। আশা করি ২০২৩ সালের আশুরা রোজা কবে তা জানতে পেরেছেন।

১১ই মহররম রোজা রাখা যাবে কি

মাসের আশুরার রোজা রমজানের রোজার পর শ্রেষ্ঠ। এ মাসের ১০ তারিখ রোজা পালন করতে হয়। মহররম মাসের রোজা কয়টি এ বিষয়ে আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ১১ মহররম রোজা রাখা যাবে কি সে বিষয়ে জানব। মহররম মাসের ছয়টি রোজা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাশীল।

তবে আপনি চাইলে এই মাসে তিনটি রোজাও করতে পারবেন কিন্তু সচরাচর সবাই দুইটি রোজা রেখে থাকেন। বিশেষ করে আর সারা দিন ইহুদি সম্প্রদায় রোজা রাখে। তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু সালাম তাদের চেয়ে বেশি আমলের সুযোগ করে দিয়েছেন। এবং নির্দেশ দিয়েছেন মহররম কে মাঝখানে রেখে আগে এবং পরে দুইটি রোজা করতে। কেউ যদি মহররমের আগের দিন অর্থাৎ ৯ তারিখে রোজা পালন না করতে পারে তাহলে সে যেন ১০ ও ১১ তারিখ দুই টি রোজা পালন করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখো, তবে এ ক্ষেত্রে ইহুদিদের সঙ্গে মিল না হওয়ার জন্য ১০ তারিখের আগের দিন অথবা পরের দিন আরো একটি রোজা রেখে নিয়ো।' (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২১৫৪)

উপরোক্ত হাদিসগুলোর আলোকে প্রমাণিত হয় যে আশুরার রোজা হবে দুটি মহররমের ১০ তারিখ একটি, আর ৯ তারিখ অথবা ১১ তারিখ আরো একটি। আবার আপনি যদি ৯ ,১০ ও ১১ তিনটি রোজা রাখেন তাও পারবেন এতে কোন গুনাহ হবে না।

মহররম মাসে কি পড়তে হয়

বছরে যে ৪টি সম্মানিত মাস রয়েছে তান্মধ্যেও মহররম একটি।হিজরি বছরের প্রথম মাস হল মহররম৷ এটি মহান আল্লাহর মাস হিসেবে পরিচিত। এ মাসের বিশেষ আমার হলো আশুরার দিন রোজা রাখা। এই দিনে আল্লাহতালা দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন এবং এই দিনে কেয়ামত সংঘটিত হবে। ইসলামের বিভিন্ন ইতিহাস রচিত হয়েছে এই মহররম মাসে আশুরার দিন।মহররম মাস একটি মহান বিজয়ের মাস।

এ মাসের ১০ তারিখ মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে তাঁর সঙ্গী বনী ইসরাইলকে ফেরাউনের আক্রমণের হাত থেকে উদ্ধার করেন আর ফেরাউন তার সঙ্গীরাসহ নীল নদে ডুবে মারা যান।

মহররম তথা আশুরার রোজা এতই মর্যাদাপূর্ণ যে এটি বিগত এক বছরের সব (সগিরা) গোনাহ মাফের ওয়াসিলা হতে পারে। হাদিসে এসেছে-‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি বিগত এক বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (মুসলিম)

ইসলামের চারটি মাসের মধ্যে মহররম একটি তাই এই মাসে আল্লাহ তায়ালার আমল গুলো সঠিকভাবে পালন করা উচিত। ভালো কাজে নিজেকে এবং কাছের মানুষকে উৎসাহ দেওয়া উচিত। এবং ফরজ আমল গুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত পাশাপাশি নফল ইবাদত গুলো আপনি করতে পারবেন। মহররম মাসের গুরুত্বপূর্ণ নফল দুইটি রোজা আমাদের পূর্বের শত শত সাগিরা গুনাহ থেকে মুক্ত পেতে পারি।

আরো পড়ুনঃ রজব মাসে কি আমল করব তা জেনে নিন

এই মাসে তো সবসময় আল্লাহতালা জিকির আজগার করতে হবে।মহরম মাস যেহেতু একটি পবিত্র মাস তাই এই মাসে হিংসা বিদ্বেষ ঝগড়া-বিবাদ থেকে দূরে থাকতে হবে। এবং যথাসাধ্য আল্লাহ তায়ালার দেখানো সরল পথে সকলকে চলতে হবে। এর মাধ্যমে আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ এবং খাঁটি ঈমানদারের সুফল লাভ করতে পারবেন।

মহররম মাসের রোজা কয়টি - আশুরার রোজা কবে ২০২৩ঃ শেষ কথা

প্রিয় পাঠক গন আজকের এই আর্টিকেলে মহররম মাসের রোজা কয়টি? আশুরার রোজা কেন করব? আশুরার না রোজা কবে ২০২৩, ১১ই মহররম রোজা রাখা যাবে কি? মহররম মাসে কি পড়তে হয়? এ বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আপনারা উক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের অবশ্যই এই তথ্যগুলো জেনে রাখা উচিত।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্যমূলক আর্টিকেল আরো করতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করুন। কারণ আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিত এ ধরনের আর্টিকেল প্রকাশ করা হয়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url