রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত

আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় পাঠক আজকের এই আর্টিকেলে আমরা রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে আপনাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে হাজির হয়েছি। কারণ রমজান মাস আল্লাহ তাআলার এবাদতের মাস রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত অত্যাধিক।

রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত

আপনারা যারা আজকের এই আর্টিকেলে রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে জানতে চান, তারা আমাদের এই আর্টিকেলের সঙ্গে থাকুন। তাহলে চলুন রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

সূচিপত্রঃ রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত

কুরআনুল তেলাওয়াত করলে অভাব দূর হয়

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে আপনাদের সামনে বিশেষ কিছু তথ্য নিয়ে হাজির হয়েছি। হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর উপর নাযিলকৃত একটি গ্রন্থ ও শেষ আসমানী কিতাব। যা রমজান মাসে শবে কদরের একটি রাতে আল্লাহ তাআলা নাযিল করেছেন তাই এ রাতের মর্যাদা আল্লাহ তায়ালা হাজার রাতের সমতুল্য করেছেন।

আরো পড়ুনঃ যাকাত কখন দিতে হবে

তাই রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াত রয়েছে বিশেষ ফজিলত। মানুষের কল্যাণের জন্য এবং হেদায়েতের জন্য কোরআন শরীফ তেলাওয়াতের গুরুত্ব অপরিসীম। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আপনার মনে শান্তি ও সুখ বিরাজ করবে।

দিন রাতের যে কোন সময় আপনি কোরআন তেলাওয়াত করতে পারবেন বিশেষ করে যে সময় গুলো আপনার খারাপ অতিবাহিত হবে এবং আল্লাহকে স্মরণ করতে চাইবেন সে সময় বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করবেন।

কোরআনে এমন কিছু আল্লাহতালা সূরা নাযিল করেছেন যে সূরা পাঠ এর মাধ্যমে আপনার সংসারের অভাব দূর হবে। তেমনি একটি সূরা হল সূরা ইখলাস। ছোট্ট এই সূরাটি রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত প্রায় আমাদের সকলেরই এই সূরাটি মুখস্থ রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন যে ব্যক্তি এই সূরা পাঠ করবে আমি তার অভাব দূর করে দেব। সাহল ইবনে সাঈদী রাদি আল্লাহু  তা 'আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পর এক ব্যক্তি দারিদ্র্যের জন্য অভিযোগ করেছিল

উত্তরে বলেছিল তুমি যখন ঘরে যাও তখন সালাম দেবে এবং সূরা ইখলাস একবার পড়বে সে ব্যক্তি কিছুদিন এ আমল করেন, এবং কিছুদিনের মধ্যেই তার দারিদ্রতা দূরীভূত হয়। (কুরতুবী ২০/ ১৮৫)

রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত

আল্লাহতালা মানুষকে সরল এবং সঠিক পথ নির্দেশনের জন্য কুরআন নাযিল করেছেন রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত অত্যাধিক।কোরআনের কোরআনের প্রতিটা অক্ষরে ও আয়াতে রয়েছে আল্লাহ তায়ালার মহিমা ও নিদর্শনের সাক্ষী এবং মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনা করার অবহমান বার্তা। 

রমজান মাসে যে ব্যক্তি কোরআনকে নিজের আবশ্যক মনে করবে এবং কোরআনের বিধি অনুযায়ী চলাফেরা করবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার ওপর আল্লাহর অশেষ নিয়ামত ও রহমত বর্ষিত হবে। কোরআন তেলাওয়াতের উদ্দেশ্যে ও কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে যদি আল্লাহ তাআলার তালার আদেশ গ্রহণ করা হয় আল্লাহ তাআলা তাকে সাড়া দেওয়া হয়।

আল্লাহর শাস্তির ব্যাপারে ভীত হয়ে থাকে, তাহলে তার মুক্তির জন্য কুরআনী যথেষ্ট। কারণ কোরআন তেলাওয়াত কারীর জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে কুরআন শাফায়াত পেশ করবে ওই ব্যক্তির জন্য যে নিয়মিত কোরআন পাঠ করতো।

মানুষের হেদায়েতের বাণী কোরআন নাজিল হয়েছে পবিত্র রমজান মাসে। বর্ণিত হয়েছে, ‘রমজান মাস, যে মাসে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে, যা মানুষের জন্য হিদায়াত এবং সুপথপ্রাপ্তির সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর হক-বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী। সুতরাং তোমাদের যে কেউ এ মাস পাবে সে যেন অবশ্যই এর রোজা রাখে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন কুরআনুল করিম থেকে যে ব্যক্তি একটি আয়াত পাঠ করবে সে একটি করে নেকি পাবে, রমজানের মাসে কোরআন তেলাওয়াত করলে প্রতিটা অক্ষরের জন্য দশ গুণ বেশি করে নেকি পাবে।

তাই আমাদের সবার উচিত কোরআনের ছোট বড় অনেক সূরা রয়েছে যে সূরাগুলো আমরা মুখস্ত করে সব সময় রমজান মাস গুলোতে পাঠ করে আল্লাহ তাআলার অশেষ নেকির অধিকারী হতে পারি।

কোরআন তেলাওয়াতকারী বিশেষ পুরস্কার

কোরআন তেলাওয়াত করে বিশেষ পুরস্কার রয়েছে মহান আল্লাহ তা'আলার কাছে। রমজানে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আপনাদের সামনে কোরআন তেলাওয়াত কারীর বিশেষ পুরস্কার সম্পর্কেও জানাবো।

আরো পড়ুনঃ ওযু ছাড়া কুরআন তেলাওয়াত করা যাবে কিনা

পবিত্র কুরআন মাজীদ আল্লাহ তায়ালার আসমানি কিতাব যা আমাদের সারা বিশ্বের মুসলমানের ওপর নাযিলকৃত হয়েছে। মানুষকে সরল সঠিক পথ নির্দেশনের জন্য আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর কোরআন নাজিল করেছেন। তাই আমাদের সকলেরই উচিত সহি শুদ্ধভাবে প্রতিটা ব্যক্তির কুরআন শরীফ পাঠ করা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোরআন তেলাওয়াত করো। কারণ কিয়ামতের দিনে কোরআন তেলাওয়াতকারীর জন্য এটি সুপারিশ করবে কিংবা মধ্যস্থতা করবে। ’ -সহিহ মুসলিম: ৮০৪

হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরও বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে কোরআন শিখে এবং শিক্ষা দেয়। ’ –সহিহ বোখারি: ৯/৬৬

তাই প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উচিৎ, গভীর মনোযোগ ও বুঝে বুঝে কোরআন তেলাওয়াত করার চেষ্টা করা। কারণ কোরআন পাঠে রয়েছে অধিক সোয়াব তাই সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে সবার উচিৎ বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা। মাসে একবার অন্তত পুরো কোরআন খতম দেওয়ার চেষ্টা করা।

কেউ যদি কোনো সমস্যা ছাড়া বেশি করতে পারেন, তাহলে আরও কম সময়ে খতম দিতে পারেন। তবে তিন দিনের কম সময়ে কোরআন খতম না করা। হজরত মুহাম্মদ (সা.) আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল আসের নিকট এ সময়টাকে সর্বনিন্ম বলেছেন।

কারণ তিনদিনের কম সময়ে কোরআন খতম করতে চাইলে একজন মানুষকে তাড়াহুড়া করতে হয় এবং সে কোরআনের বাণী নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে পারে না এবং মনোযোগ দিতে পারে না।

কোরআন পড়ার উদ্দেশ্য শুধু তাড়াহুড়া করে কুরআন খতম নয় কোরআনের অর্থ বুঝে আস্তে আস্তে কোরআন পড়তে হবে এবং কোরআন থেকে আল্লাহ তা'আলা যে জ্ঞান ও ইসলামিক পথনিদর্শনের বার্তা সম্পর্কে জানিয়েছেন তা বুঝতে হবে।

কোরআন খতমের সহজ পদ্ধতি

রমজান মাস ছাড়া এমনি সময়ে কোরআন তেলাওয়াতকারী ও খতম কারীর সংখ্যা অনেকেই কম। কারণ রমজান মাস ছাড়া কুরআন অনেকেই খুলে দেখেন না, খতম তো দূরে থাক। আসলে এটা করা ঠিক নয়, কারণ পবিত্র রমজানুল মোবারক হল আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ মর্যাদাবান মাস।

এ মাসে নাযিল হয়েছে পবিত্র কোরআন। তাই এই মাসে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত ও খতম দেওয়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরী। রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত অত্যাধিক।

তাই আপনি চাইলেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর অল্প অল্প করে কুরআন শরীফ পড়ে খতম দিতে পারেন। দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর আপনি যদি ১০ মিনিট করে দুইটি পৃষ্ঠা কোরআন শরীফ পড়েন তাহলে আপনার একদিনে এক পারা কোরআন শরীফ পড়া নিশ্চিন্তেই হয়ে যাবে, এতে করে আপনাকে আলাদা কোন সময় বের করতে হবে না।

আরো পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় ফেসবুক চালানো যাবে কিনা

আর এভাবেই যদি আপনি নিয়মিত প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর দুই পৃষ্ঠা করে কোরআন শরীফ পড়েন তাহলে খুব সহজে আপনি একমাসেই খতম দিতে পারবেন। তাছাড়া আপনার সারা দিনের কর্মব্যস্ততায় আপনার ছোট বড় অনেক সূরা আপনি মনে মনে পাঠ করতে পারেন। এবং আপনার সারাদিনের কোন কাজের ঘাটতি না করে আপনি রমজান মাসের অধিক অর্জন করতে পারবেন।

রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলতঃ শেষ কথা

রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত, কোরআন খতমের সহজ পদ্ধতি, কোরআন তেলাওয়াতকারী বিশেষ পুরস্কার, কুরআনুল তেলাওয়াত করলে অভাব দূর হয় এ বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। প্রিয় বন্ধুরা আশা করি আপনারা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আপনাদের বিষয়গুলো জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত।

আপনার এবং আপনার পরিবারের সুস্থতা কামনা করে আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আবার দেখা হবে নতুন কোন আর্টিকেল। আমাদের এই ওয়েবসাইটে নিয়মিত এই ধরনের তথ্যমূলক আর্টিকেল প্রকাশ করা হয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Skbd IT এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url